প্রতিনিধি উৎপল ঘোষঃ
র্যাব -৬,সিপিসি -৩ যশোর এর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোঃ সাকিব হোসেন জানান,উন্নত তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যশোর এর একটি আভিযানিক দল ইং ১০ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে জানতে পারে যে, বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকের একটি চালান নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে আসছে।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় আভিযানিক দলটি রাত ৯ টা দশ মিনিটের সময় বেনাপোল সড়কে দলুর গেট (রেলগেট)এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে একটি মোটরসাইকেল চেকিং এর জন্য সিগন্যাল দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব সদস্যরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টু (৬০), পিতাঃ মৃত তেজারত মন্ডল, দুর্বাচারা, থানাঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া এর দেহ তল্লাশী করে তার হেফাজত হতে ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি ম্যাগাজিন যার একটি ম্যাগাজিনের ভেতর ০৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি এবং মোঃ ইদ্রিস মন্ডল (৪৫), পিতা- মৃত মঈনুদ্দিন মন্ডল,দুর্বাচারা, থানাঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এর দেহ তল্লাশী করে তার হেফাজত হতে ০১ টি রিভোলবার উদ্ধার করা হয় ও তাদের হেফাজত হইতে ০১ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার পূর্বক ইং ১০ জুলাই রাত ৯ টা ৫৫ মিনিটের সময় জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগের সামরিক প্রধান হিসেবে মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টু সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থী সংগঠন “শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজ” প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে তার নিজের এলাকায় ২০/৩০ জনের গ্রুপ তৈরি করে নিজ জেলার মধ্যে খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশন শুরু করে। সন্ত্রাসী মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টু এলাকাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেই সর্বজন পরিচিত। সে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে বলেও জানা যায়। বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ইং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে সন্ত্রাসী মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টুর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রারীরা কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন দুর্বাচারা এলাকায় অর্ধশতাধিক গুলি বর্ষণ সহ বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট করেছে। বিষয়টি অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার এই সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দুর্বাচারা এলাকার সাধারণ জনগন বিভিন্ন সময় মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বলে জানা যায়।
আসামী মোঃ ইদ্রিস মন্ডল ও আসামী মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টু এর সকল অপরাধের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে বলে জানা যায়।
তাদের স্বীকারোক্তি মতে আরো জানা যায় যে, সন্ত্রাসী মোঃ আব্দুল লতিফ লাট্টু যশোর জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আমদানিকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ স্বল্প দামে ক্রয় করে অধিক দামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ/বিক্রিসহ বিভিন্ন কিলিং মিশনে অস্ত্র- গোলাবারুদ ভাড়ায় প্রদান করে থাকে। এছাড়াও তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার কাজে এই অস্ত্র-গোলাবারুদ ব্যবহার করে থাকে।
জব্দকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
Leave a Reply