অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানী লিঃ এর নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক দুর্নীতি – অনিয়ম

AUTHOR: Jago Chandpur
POSTED: রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯at ১২:০৮ অপরাহ্ণ
141 Views

দুর্নীতির সন্ধানে ॥ দিন্দিন দুরবস্থায় পড়ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। বেড়েই চলছে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেখাযায়, অগ্রণী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী কোম্পানী অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানী লিঃ এর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি আর খেলাপি ঋণ। ঋণের খাতে ভোক্তাদের নিকট হইতে সুদ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২%-৩% টাকা আদায় করে তা যথাযথ খাতে ব্যবহার না করে বিভিন্ন ভাবে ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। উক্ত আত্মসাতের সাথে প্রতিষ্ঠানের তৎকালিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপমহাব্যবস্থাপক এর যোগসাজসে হয়েছে মর্মে আপত্তি উত্থাপিত হয়। প্রতিবেদনটিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটিতে দেখাযায়, প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক মোঃ মোজাহিদুল ইসলামকে ০৮/০৩/১৯৯৯ তারিখে এসইডি প্রকল্পে চুক্তি ভিত্তিক মনিটরিং এনালিষ্ট হিসেবে নিয়োগদান করেন। কিন্তু নিয়োগপত্রে চুক্তির মেয়াদ উল্লেখ নেই। উক্ত কর্মকর্তাকে ২৫/০২/২০১৫ তারিখে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রচলিত চাকুরীর বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। উক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সাময়িক সনদপত্রের কপি সংরক্ষিত নেই বলেও বাংলাদেশ ব্যাংক জানান। এছাড়াও সিনিয়র অফিসার শিল্পী বিশ্বাসের জন্ম তারিখ ২২/১১/১৯৭৯ খ্রি:। অফিসার হিসেবে চাকুরীতে যোগদানের তারিখ ০৩/০৭/২০১১খ্রি:, যা চাকুরীতে যোগদানের বয়স সীমার অতিরিক্ত/লংঘন। অফিসারহতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির তারিখঃ ০৩/১১/২০১৩। এক্ষেত্রেও পদোন্নতির সময়সীমা সম্পর্কিত সার্ভিস রুল মানা হয়নি বলে প্রতিবদেনটিতে জানান। সিনিয়ির অফিসার হীরক দাসকে কোনো রকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই সিনিয়র অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সিনিয়র অফিসার মোঃ ইমরান খান ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ: ০৩/০৯/২০১৪। ক্রেডিট অফিসার হতে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতির তারিখ: ৩০/০৪/২০১৫। এ ক্ষেত্রেও পদোন্নতির সময়সীমা সম্পর্কিত সার্ভিস রুল মানা হয়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের কপি নথিতে পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
অফিসার মোসা. মরিয়মের জন্ম তারিখ ২৯/১১/১৯৮১। অফিসার হিসেবে কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ ২৯/১০/২০১৩ যা চাকুরীতে যোগদানের বয়স সীমার অতিরিক্ত/লংঘন হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
অফিসার মোঃ শামীম মোল্লার জন্ম তারিখ ১৩/০৭/১৯৮৩। অফিসার হিসেবে কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ ২৯/১০/২০১৩ যা চাকুরীতে যোগদানের বয়স সীমার অতিরিক্ত/লংঘন করা হয়েছে বলে জানান।
অফিসার (চুক্তিভিত্তিক) মো: শাহ আলম কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ ১৮/০৬/২০১২। পরবর্তী বছর নবায়ন করা হয়েছে। নিয়োগপত্রে কর্মকর্তা কর্তৃক আবেদনের রেফারেন্স দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো আবেদন ব্যক্তিগত নথিতে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত নথিতে পার্সোনাল রেকর্ড এর কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের কোনো কপি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
সিনিয়র অফিসার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ) জাকিয়া আবেদীনের জন্ম তারিখ ২১/১২/১৯৮২। অফিসার হিসেবে কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ ০৩/১১/২০১৩ যা চাকুরীতে যোগদানের বয়স সীমার অতিরিক্ত লংঘন। ব্যক্তিগত নথিতে পার্সোনাল রেকর্ড এর কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও পুলিশ ভেরিফেকেশনের কপি পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিনিয়র অফিসার সৈয়দ নবীরুল ইসলাম মিঠুর জন্ম তারিখ ০৯/০১/১৯৮১, অফিসার হিসেবে কোম্পানীতে যোগদানের তারিখ ২৯/১১/২০১৩ যা চাকুরীতে যোগদানের বয়স সীমার অতিরিক্ত/লংঘনসহ ব্যক্তিগত নথিতে ভেরিফিকেশনের কপি পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
উপরোক্ত বিষয়ে অগ্রণী এস এমই ফইন্যান্সিং কো: লি: এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অগ্রণী ব্যাংক লি: প্রধান কার্যালয় এবং মো: নুরুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অগ্রণী এস এমই ফইন্যান্সিং কো: লি: এর নিকট তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হলে কোন প্রকার উত্তর না পাওয়া গেলে আসাদুল ইসলাম, সচিব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রনালয় বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা এর কাছে তথ্য অধিকার আইনে আপিল করা হলে তিনি লিখিত পত্রের মাধ্যমে জানান, শেখ আকরাম উদ্দিন, উপ-মহাব্যবস্থপক, ব্যাঞ্চ এন্ড সাবসিডিয়ারীজ/ ইউনিট কন্টোল ডিভিশন এর নিকট তথ্য চাওয়ার পরামর্শ দেন। যদি উনি তথ্য দিতে অপারগ হন তাহলে মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অগ্রণী ব্যাংক লি: প্রধান কার্যালয় এর নিকট তথ্য চাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তৎ প্রেক্ষিতে উপরোক্ত দুই নির্বাহীর কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হলে, যাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো তাহার দ্বারা লেখিত পত্রের মাধ্যমে উত্তরে জানান, তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর ৭নং ধারা ‘জ’ এবং ‘ঝ’ উপধারার বিধান মোতাবেক আপনার আবেদন গ্রহনযোগ্য নয়। আরো বলেন, ঋণ গ্রহীতাদের নিকট হতে Loan Risk Fund হিসেবে ২% সুদ প্রতিষ্ঠান হতে যথানিয়মে হিসাবায়ন করা হয়েছে। উক্ত লেখিত পত্রের জবাবে, সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধান তথ্য কমিশন বরাবর একটি আপিল করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক লিঃ প্রধান কার্যালয় ঢাকা এর অডিট ডিভিশনের মো: মনোয়ার হোসেন, জিএম এন্ড হেড অব আই সি সি এর সাথে এ বিষয়ে আলাপ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।


[bwitSDisqusCom]