কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধীতাকারী মোস্টওয়ান্টেড লিয়াকত আলী অস্ত্র মামলায় কারাগারে

AUTHOR: News Admin
POSTED: বুধবার ৪ মার্চ ২০২০at ৮:২১ অপরাহ্ণ
353 Views

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সাবেক ভিটে-মাটি গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্ববায়ক , ঐতিহাসিক কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধীতাকারী, বর্তমান কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সহযোগী, মার্ডার মামলার আসামী উল্লেখ্য, লেয়াকত আলী গন্ডামারার সাধারণ জনতার আবেগকে পুঁজি করে ঐক্যবদ্ধ জনমত গঠন করে এস আলমের কলাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধীতা করেন। ভিটেমাটি রক্ষার নামে জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে বিশাল জনমত গঠন করা লেয়াকত খোদ্ নিজেই এস আলমের সহযোগী হয়ে কাজ করেছেন বর্তমানে। ঐতিহাসিক গন্ডামারা ট্রাজেডির একজন আসামী তিনি।

বাঁশখালীর গন্ডামারায় আবু তাহেরকে হত্যার ঘটনা দিয়ে শুরু। ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের। এরপরের মিশন ১৯৯৯ সালে। একই এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় নুরুল কবিরকে। এই দুটি হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী।

বুধবার (৪) মার্চ চট্টগ্রাম দায়রাজজ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অস্ত্র আইনের মামলায় গন্ডামারার চেয়ারম্যান, লিয়াকত আলীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এ দুটি হত্যাকাণ্ডের পর বাঁশখালীজুড়ে আতংকের নাম লিয়াকত। একের পর এক নয়টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় তার নেতৃত্বে- এমন অভিযোগ লিয়াকতের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামজুড়ে রয়েছে নাশকতা, চেক জালিয়াতি, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ মোট ২৪টি মামলা। তার প্রভাব ছিল এতটাই, আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকার পরও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। সরকারের তালিকায় ‘মোস্টওয়ান্টেড’ এই লিয়াকতকে এবার হতে হলো ‘ধরাশায়ী’।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল বাঁশখালীর গন্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে আলোচনায় আসেন লিয়াকত। এসময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ-বিপক্ষ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গন্ডামারার মর্তুজা আলী, মো. আংকুর. জাকের আহম্মদ ও জাকের হোসেন নিহত হন। ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ আলীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত।

এর আগে ১৯৯৪ সালে গন্ডামারার আবু তাহের ও ১৯৯৯ সালে গন্ডামারার নুরুল কবিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব মামলাতেও আসামি তিনি। এছাড়া ২০১৪ সালে অস্ত্র ও ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিস্ফোরক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লিয়াকত বিএনপি নেতা হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও কোনঠাসা ছিল তার সন্ত্রাসের রাজত্বে। তার বিরোধিতা করলে পরিণতি হতো ভয়ংকর। প্রভাব খাটিয়ে গত ২০১৭ সালের ২৫ মে গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় একবারের জন্যও উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভা ও উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থিত হননি তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, পর পর ৩ সভায় অনুপস্থিত থাকলে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ১৭ মাস ধরে প্রত্যেকটি সভায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার প্রভাবের কারণে প্রশাসন তাকে বরখাস্ত করেনি। পলাতক থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে সরকারি কাজ আদায় করতেন তিনি।


[bwitSDisqusCom]